Wednesday, 15 June 2022

গদ্য

সবুজাভ উপত্যকার বাতাসের সাথে দৌড়তে দৌড়তে ভাবনারাও দুরন্ত হয়ে ওঠে। পাইন বেয়ে প্রশমিত রোদের ডানায় লেগে থাকে চপলতাহীন রোমাঞ্চ। বেলা মুখর হয়ে ফিরে যায়। কোমল ধৈবতের মতো শিশির আসে ঘাস, মাঠ, জঙ্গলে। নৈঃশব্দের উজ্জ্বলতাও অহংকারী হয়ে ওঠে স্বর্গীয় শান্তির ঔজ্জ্বল্যে। প্রচ্ছন্ন জাগরণে যদি প্রণত হয়ে থাকি তা কি সুখকর নয় ? এ দীর্ঘ নির্মলতা অবিরাম প্রসন্নতা প্রসারী। এই রোদ ভিখারি, চোরের মতো। হৈ হৈ নয়, সোচ্চার নয়, নিমজ্জিত পাথরের মতো নীরবতা পালনে প্রয়াসী হয়ে ওঠা। সর্বস্ব লুকিয়ে জলের গহীনে অথচ স্রোতের নিরীক্ষণ। সাংঘাতিক শূন্যে শান্তির আলিঙ্গন লোভী অথচ দুরন্ত ভাবনাযাপনে প্রাণ পেতে দেওয়া - এমনই স্ববিরোধী সত্তার প্রকাশে ধাবমান। জানি না চুরমার হবে কি না এ মূর্খ দৌড়। হাড়-পাঁজরায় আধুনিক হয়ে ওঠা আমি যেভাবে পুড়ে পুড়ে যাই লিখতে পারি না উথালপাতাল কবিতা। এ সমস্ত ভূমিকা নিয়ে কথা কমে আসে। যথাযথ বর্ণনা দিতে পারি না। অথচ সেটাই প্রাথমিক ইচ্ছে ছিল যা এখন অক্ষমতার স্তরে। যদিও এ কাঁদুনির কোনও প্রয়োজনীয়তা ছিল না, এ কোনও বিরাট অপরাধ নয়, তবু রোদ থেকে শিশির হয়ে যাওয়া, উন্মীলন থেকে নিমীলনে উত্তরণ - এখানে পরাজয় কি জয় জানি না। সুতরাং কী লিখবো তাও ঠিক বোধগম্য নয়। এ যেন অবর্ণনীয় মেঘের মতো, কুয়াশার মতো। অস্পষ্ট অথচ সুন্দর, মুগ্ধ অথচ অধরা, এমন।

Sunday, 16 January 2022

নকশি কাঁথা

আমার মায়ের বেশ কিছু নকশিকাঁথা ছিল বেশিরভাগেরই জমিনটা সাদা হলেও গায়ে রঙবাহারি সুতোর মিহিকাজ । পুরনো শাড়ি - যেগুলোর মায়া পুরোটা কাটিয়ে উঠতে পারেনি, সেগুলোর পাড় থেকে শক্তপোক্ত রঙবেরঙের সুতোগুলোকে হাতের আঙুল ও পায়ের আঙুলের ম্যাজিকে অনায়াসে তুলে এনে তাদের সাহায্যে মা, সাদা কাঁথার উপর বুনে দিত রঙবাহারি মিহিকাজ। সে কাজের মধ্যে মায়ের কত কত সময় যে গাঁথা আছে আছে মায়ের আঙুলের কত কত গান সেসব মুহূর্তের কত সুখদুঃখের অনুভব। কত কত ভাবনা, গল্পগাছার বুনন এতকিছুর মিশেলে মায়ের গন্ধ আরও ছড়িয়ে ছিল সে কাঁথায় । প্রিয় সে নকশিকাঁথা স্মৃতিঘরে আজও এতদূরে মায়ের সুবাস নিয়ে আসে।

Monday, 13 July 2020

আজ নেপালি আদিকবি ভানুভক্ত আচার্যের ২০৬ তম জন্মদিনে তাঁর একটি বিখ্যাত কবিতা "घाँसी" বাংলায় অনুবাদ করার চেষ্টা করেছি।

ঘাসী
কবি ভানুভক্ত আচার্য্য
**************
জীবনভর ঘাসে মন দিয়ে করেছে উপার্জন
তবু পরে নাম রেখে যেতে করেছে কূপ খনন ।
ঘাসী দরিদ্র ঘরের তবু বুদ্ধি কত
আমি ভানুভক্ত, ধনী হলেও কেন এমত।
আমার না কুয়ো আছে, না ধর্মশালা আছে
যা কিছু সম্পদ আছে ঘরের ভেতরেই আছে।
সেই ঘাসী কীভাবে পরামর্শ দিয়েছে অতি
ধিক আমাকে, পারিনি রেখে যেতে কোনও কীর্তি।

(অনুবাদ - মৌসুমী ভৌমিক)

মূল কবিতা
     
     घाँसी
    आदिकवी भानुभक्त आचार्य
*************************
भर् जन्म घाँस तिर मन् दिई धन कमायो
नाम क्यै रहोस् पछि भनेर कुवा खनायो
घाँसी दरिद्र घरको तर बुद्धि कस्तो
म भानुभक्त धनी भैकन किन यस्तो
मेरा ईनार न त सत्तल पाटिकै छन्
जे धन चीजहरु छन् घर भित्रनै छन्
त्यस घाँसीले कसरी आज दिए छ अर्ति
धिक्कार हो म कन बस्नु न राखि किर्ति ।

Wednesday, 6 May 2020

বোধগয়া ও বৈদ্যনাথ ধাম ভ্রমণ

মৌসুমী ভৌমিক ************************ ডিসেম্বর 2019 । ক্রিসমাসের ছুটি তে বেরিয়ে পড়লাম আমরা। উদ্দেশ্য ছোটখাটো একটি ট্যুর । প্রথমে আমরা পৌঁছলাম গয়া । শীতকালে শীত হবেই তবু আশা ছিল গ্যাংটকের ( বর্তমান বাসস্থান) থেকে কমই হবে। সকাল ন'টা সাড়ে নটা হবে হোটেলে পৌঁছই। ততটা ঠান্ডা তখনও লাগেনি অল্প রোদ কুয়াশা চলছে । আমার শাশুড়ি মায়ের পিন্ডদান দেবো বহু বছর ধরে ভেবে রেখেছিলাম। পৌঁছে ভাবলাম সকাল থেকে তো না খেয়ে রয়েছি তো কাজটা সেরে ফেলা যাক । ওখানকার পুরোহিত বললেন সেটাই ভালো হবে আমরা ব্যাগ পত্র হোটেলে রেখেই তৈরি হয়ে নিলাম যাবার জন্য। পুরোহিতের সঙ্গে পৌঁছলাম ফল্গু নদীর ওপর । এতদিন মা দিদিমার কাছে গল্প শুনেছি মাটির নীচ দিয়ে ফল্গু নদী বয়ে যায় । প্রথমবার দেখা, আমার মনে তখন রোমাঞ্চ । আমি ও আমার স্বামীর সঙ্গে আমার ছোট মেয়ে তুলতুল (ডাকনাম)। প্রথম দেখছি ফল্গু নদী, একটা রোমহর্ষক ব্যাপার । যাই হোক প্রচন্ড ঠান্ডা তার মধ্যে নদীর চরে প্রচন্ড হাওয়া, জলের দিকে যাওয়া যাচ্ছে না অগত্যা পুরোহিত বললেন এই ফল্গু নদীর উপরেই শাশুড়ি মায়ের পিন্ডদান করতে । একটু খানি বালি সরাতেই জল উঠে এলো তার পাশেই সবকিছু সাজিয়ে ফল্গু নদীর জল দিয়েই আমাদের কাজ সমাধা করা হলো। গয়াতে ফল্গু নদীর পাশেই বিখ্যাত বিষ্ণুপদ মন্দির । আশেপাশের মন্দিরগুলো দেখে হোটেলে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নেওয়ার পর বুঝলাম দিনের বেলাতেও প্রচন্ড কুয়াশা । রাস্তাঘাট ক্রমশ জনমানব শূন্য হয়ে উঠলো । যাইহোক প্রচণ্ড ঠাণ্ডায় কাঁপতে কাঁপতেও বিকেল নাগাদ আশেপাশে একটু ঘুরে এলাম। সূর্যমন্দির, পাতালেশ্বর শিব ও অক্ষয়বট গয়ার দর্শনীয় স্থান । সন্ধ্যে হতে হতে দুই হাত দূরের লোক দেখা যাচ্ছে না আমরাও প্রচন্ড শীত অনুভব করতে লাগলাম। পরবর্তীতে জেনেছি সেদিনই ছিল সেই মরশুমের শীতলতম দিন। পরদিন সকালে উঠে দেখি এক হাত দূরেও কিছু দেখা যাচ্ছে না, গরম জলে কোনোক্রমে স্নান সেরে আমরা রওনা হলাম বোধগয়া । গয়া থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অটো করে পৌঁছে গেলাম বোধগয়া। বৌদ্ধদের কাছে জায়গাটি খুবই পবিত্র স্থান। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বৌদ্ধদের আর্থিক সাহায্যে এখানে অসংখ্য মন্দির, ধর্মশালা, বিহার ও সাধনাকেন্দ্র গড়ে উঠেছে যা বুদ্ধগয়াকে একটা আন্তর্জাতিক নগরীতে পরিণত করেছে। পৌঁছে সেখানে একটি টোটো ভাড়া করে প্রথমে আমরা স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলি ঘুরে দেখলাম । আশি ফুট বুদ্ধমূর্তিটি বুদ্ধগয়ার অন্যতম আকর্ষণ । মূর্তিটি জাপানি ভক্তদের দ্বারা তৈরী । মূর্তিটির দুপাশে দাঁড়ানো অন্যান্য প্রখ্যাত বুদ্ধভক্তদের মূর্তিও রয়েছে। এছাড়াও রয়েছে অনন্য শিল্প নৈপুণ্যে সমৃদ্ধ থাই মন্দিরটি। থাই মন্দিরের ভেতরে রয়েছে অষ্টধাতুর একটা বুদ্ধ মূর্তি । তিব্বতি মন্দির ও জাপানি মন্দিরও এখানকার অন্যতম আকর্ষণ। স্থানীয় দর্শন শেষ হবার পরে মূল আকর্ষণ মহাবোধি মন্দিরে যাবার জন্য লাইন দিতে হলো। মোবাইলের প্রবেশাধিকার নিষেধ, অগত্যা মোবাইল, পার্স, ক্যামেরা সব নির্ধারিত কাউন্টারে জমা রেখে লাইন অনুসরণ করে মূল মন্দিরের পৌঁছই । সে এক অভূতপূর্ব শান্তির জায়গা । ভগবান বুদ্ধের প্রতিকৃতি যেখানে রয়েছে সেখানে গেলে আপনা থেকেই নতজানু হয়ে যায় প্রত্যেকে। বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ছাড়াও পৃথিবীর সব প্রান্ত থেকে অন্য ধর্মের লোকেরাও এখানে সারাবছর ভিড় করে ছুটে আসে ভগবান বুদ্ধের দর্শনে। মহাবোধি মন্দির বর্তমানে ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট। মহাবোধি বিহার মন্দিরটি মঠের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত। মহাবোধি মন্দিরটি অপূর্ব শিল্প নৈপুণ্যে নির্মিত। দ্বিতল মন্দিরটির নীচের অংশ ৪০ বর্গফুট আর উচ্চতা ১৭০ ফুট, চতুস্কোনাকৃতি। খ্রীষ্টপূর্ব ১৮৪-১৭২ শতকের এই মন্দিরে রয়েছে প্রাচীন সুদৃশ্য বেষ্টনী দিয়ে ঘেরা সুবর্ণ বুদ্ধ। মঠের ভেতরে চারদিকেই বৌদ্ধ পুণ্যার্থীরা ধ্যান বা প্রার্থনার মাধ্যমে শ্রদ্ধা নিবেদন করে থাকেন। সম্রাট অশোক মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন। বুদ্ধগয়ার এই মহাবোধি বিহার বৌদ্ধদের কাছে পবিত্র ও শ্রেষ্ঠতম তীর্থ স্থান হিসেবে পূজিত হয়। সারা বিশ্বের সকল বৌদ্ধ ও নির্বাণকামী মানুষ এই স্থানে এসে তীর্থদর্শন করেন ও তাদের মনোবাঞ্ছা পুরণার্থে ধ্যান-সমাধি করেন ও পূজা দিয়ে থাকেন। পরম পবিত্র বোধিবৃক্ষটি বুদ্ধগয়ার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। মন্দিরের পশ্চিম দিকে পবিত্র বোধিবৃক্ষটি অবস্থিত। পালিশাস্ত্রে এই গাছটির নাম বোধিমণ্ড। এই বৃক্ষের নিবিড় ছায়ায় বসেই সিদ্ধার্থ গৌতম বুদ্ধত্ব বা জ্ঞানলাভ করেছিলেন। এই বোধিবৃক্ষটি পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন বৃক্ষরূপে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে। ঝড়-ঝাপটা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানুষের অত্যাচার সহ্য করে এখনও দাঁড়িয়ে আছে। বোধিবৃক্ষের ছায়ার নিচে আজও বৌদ্ধ পুণ্যার্থীরা প্রার্থনা করে থাকেন। পাশেই সুজাতা দিঘি - কথিত আছে, এই দিঘির জলে স্নান করে সুজাতা পায়েস নিবেদন করেছিলেন বুদ্ধদেবকে। বোধগয়া দর্শন করে দ্বিপ্রাহরিক আহার সারার পর আমরা রওনা দিলাম দেওঘর । উদ্দেশ্য বৈদ্যনাথ ধাম দর্শন। দেওঘরে শিবলিঙ্গ বারোটি জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম । সবার বিশ্বাস যেকোনো ভক্ত একান্ত ভাবে কোনো প্রার্থনা নিয়ে এলে বাবা বৈদ্যনাথ তার মনোকামনা পূর্ণ করেন। দেওঘরে মহাদেব রাবণেশ্বর শিব নামেও প্রসিদ্ধ। শিব পুরাণ অনুসারে লঙ্কার রাজা রাবণের তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব রাজি হন তাঁর সঙ্গে লঙ্কায় যেতে। তবে পথে কোথাও থামা চলবে না। এটাই শর্ত। রাবণ যখন মহাদেবকে নিয়ে চলেন লঙ্কার উদ্দেশ্যে তখন দেবতারা প্রমাদ গোনেন, রাবণকে বাধা দিতে ব্যস্ত হয়ে ওঠেন । দেবতাদের চক্রান্তে প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বাধ্য হন রাবণ শিবলিঙ্গকে মাটিতে নামিয়ে রাখতে। সেই থেকে রাবনেশ্বর শিবের প্রতিষ্ঠা দেওঘরে । তথাপি দেওঘর বাবা বৈদ্যনাথ ধাম নামেই সুপরিচিত এবং এটি একটি জাগ্রত শক্তিপীঠ। কথিত আছে দক্ষযজ্ঞে নিহত সতীর দেহ নিয়ে মহাদেব যখন প্রলয় নৃত্য শুরু করেছিলেন তখন বিষ্ণু চক্র দিয়ে সতীর দেহ খন্ড খন্ড করে ফেলেন । যেখানে যেখানে সতীর দেহাঙ্গ পরে সে জায়গা গুলোকে পীঠস্থান বলেই মানা হয়। সতীর হৃদয় পড়েছিল দেওঘরে, কথিত আছে তাই এই স্থান শিবের সবচেয়ে প্রিয়। সারাবছর অসংখ্য শিবভক্ত ভগবান শিবের পূজার্চনা করার জন্য ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দেওঘরে আসে । যাইহোক রাত্রি আটটা সাড়ে আটটা নাগাদ আমরা জেসিডি স্টেশনে পৌঁছই । আমরা দেওঘরে পৌঁছে জানতে পারি তখন সৎসঙ্গ আশ্রমের উৎসব চলছে। ফলতঃ আমাদের একটু বেগ পেতে হয হোটেল পেতে। তবে যে হোটেলে আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয় সেটি সৎসঙ্গ আশ্রমের প্রায় কাছাকাছি। পরদিন সকালে প্রথমেই আমরা সৎসঙ্গ আশ্রম দর্শন করি।ভিতরে একটা শান্তিময় পরিবেশ । চারিদিকে ঠাকুরের বাণী লেখা । উৎসব চলছিল সেজন্য প্রচণ্ড ভিড়। উৎসব উপলক্ষে অনুকুল ঠাকুরের শিষ্যদের সেসময় দেওঘরে আগমন। দেওঘরে না গেলে অনুকূল ঠাকুরের আশ্রমের এত বিশাল কর্মকান্ড হয়ত আমার অজানাই থাকত। সেদিনের মত আমরা বেরিয়ে পড়ি বাবা বৈদ্যনাথ ধামের উদ্দেশ্যে, পৌঁছে সেখানে পুজো দিয়ে বাবা বৈদ্যনাথের আশীর্বাদ প্রার্থনা করি। মূল মন্দিরের ঠিক উল্টো দিকে মা পার্বতীর মন্দির । চারিদিকে বিভিন্ন দেব দেবীর অসংখ্য মন্দির । সব মন্দিরেই আমরা প্রবেশ করলাম। তারপর দুপুরের আহারাদির পর আমরা নন্দন পাহাড় যাই। নন্দন পাহাড় শহর থেকে বেশ কিছুটা দূরে এখানে ছোটদের পার্ক রয়েছে, রয়েছে টয়ট্রেন ও ছোটদের নানান খেলার সামগ্রী। টয় ট্রেনে করে পাহাড়ের বেশ কিছুটা অংশ ঘোরানো হয় এখানে। অনেক রকম মডেল, ফোয়ারা, দোলনা, ফুলের বাগান আরো কতো কী। এছাড়া একটি জুতোর আকৃতির ফিশ অ্যাকোয়ারিআম ও একটি কঙ্কালের আকৃতির ভুত ঘরও আছে। নন্দন পাহাড়ের পার্কের পাশেই কিছুটা উপরে উঠেই রয়েছে মা কালী সরস্বতী হনুমান ও শিবসহ বিভিন্ন দেব দেবীর মন্দির । নন্দন পাহাড় থেকে ফিরে সন্ধ্যেবেলা আবার বাবা বৈদ্যনাথ মন্দির । সকলে মিলে সান্ধ্য আরতি দেখে তারপর দেওঘরে ফিরে মার্কেটে নানারকম শীতবস্ত্রের সম্ভার দেখে কিছু কেনাকাটা করে ফেললাম আমরাও। পরদিন সকালে ত্রিকুট পাহাড় দর্শন করার জন্য সকাল সকাল স্নান সেরে সকালের প্রাতঃরাশ সেরে আমরা বেরিয়ে পড়ি ত্রিকুট পাহাড় এর উদ্দেশ্যে । ত্রিকুট পাহাড় মোটামুটি ১৬ থেকে ১৮ কিলোমিটার দেওঘর থেকে। রাস্তায় যেতে যেতে আমরা প্রথমে নওলক্ষা মন্দিরে যাই। নওলক্ষা মন্দির এক উত্তম স্থাপত্যের নিদর্শন। এখানে গোপালের বাস । মন্দির নির্মাতার একটি মূর্তি মন্দিরে ওঠার সিঁড়ির কাছেই রয়েছে । শোনা যায় তথকালীন সময়ে এই মন্দির নির্মাণে 9 লক্ষ টাকা খরচ হয়েছিল । তাই মন্দিরের এই নাম ।মন্দিরের ভিতরে ফোটো তোলা নিষেধ । এরপর রওনা দিই তপোবনের দিকে । তপোবনে পৌঁছে এক ফটোগ্রাফার নাছোড়বান্দা ফটো তুলবে বলে সঙ্গে সে গাইড এর কাজ করবে। আমরাও সানন্দে খুশি হয়ে গেলাম। সিঁড়ি বেয়ে উঠতে লাগলাম আর পথে বিভিন্ন মন্দির আর তার সাথে ফটো তোলা ও সেখানকার গল্প শোনা চলতে থাকল। এভাবেই আমরা পাহাড়ের উপরে উঠলাম । ননীচে নামার দুটো উপায় । হয় যে পথে উঠেছি সেই সিঁড়ি দিয়ে নামতে হবে, অথবা গুহা পথে এগোতে হবে । আমরা দ্বিতীয় পথেই নামতে শুরু করলাম। পথটা একটু ভয়ানক হলেও বেশ রোমাঞ্চকর । কখনও বাঁকা হয়ে কখনো নিচু হয়ে, কখনও বা হামা দিয়ে আবার কখনও পাথরে পিঠ দিয়ে এগিয়ে চলা । এভাবেই আমরা নীচে নামলাম । এরপর আমাদের যাত্রার শেষ বিন্দু ত্রিকুট পাহাড়। তিনটি বড়ো মাপের পাহাড় পাশাপাশি অবস্থিত । তিনটি পাহাড় যথাক্রমে ব্রহ্মা, বিষ্ণু আর মহেশ্বর রূপে কল্পনা করে স্থানীয় মানুষজন । তিনটির মধ্যে দুটিতে ট্রেকিং করা যায় ও একটিতে খাড়াইয়ের জন্য হেঁটে ওঠা যায়না। প্রধান শৃঙ্গটিতে একটি রোপওয়ে চালু আছে। অবশ্য আমরা রোপওয়েতে উঠিনি । অপূর্ব সুন্দর একটি পাহাড়ের মাথায় একটি প্রাচীন শিব মন্দির আছে। এখানকার নৈসর্গিক দৃশ্য খুব খুব সুন্দর তবে বানরদের মুক্তাঞ্চল । সাবধান নাহলে আপনার হাতের পার্স থেকে মোবাইল সবই তাদের হস্তগত হতে পারে । ভ্রমণার্থিরা ছোলা থেকে শুরু করে বিভিন্ন রকমের খাবার ওদের দিয়েও থাকে এবং বানররা সেটা নিতেও বেশ অভ্যস্ত দেখলাম। ত্রিকুট পাহাড় এ উঠতে গিয়ে এরকম অভিজ্ঞতা আমারও হল। এক বাঁকে হঠাৎ করে একবার এক বানর এসে আমার চুড়িদার ধরে দাঁড়িয়ে গেল আমিতো ভয়ে একসা। আমার হাজবেন্ডের কাছে কিছু ছোলা ছিল সেটা সঙ্গে সঙ্গে দিয়ে দেওয়াতে সে যাত্রায় বেঁচে যাই। সে আমাকে ছেড়ে ছোলা নিয়ে চলে যায়। কিছু চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে পৌঁছে যাই চূড়ায় যেখানে প্রাচীন শিব মন্দির। ব্যাগ থেকে মোবাইল বের করে ফটো তুলতে যাব ঠিক তখনই সবাই চিৎকার করে ওঠে । ঘুরে দেখি একটি বানর একদম আমার কাছে, কোনওক্রমে ব্যাগের মধ্যে মোবাইল রেখে হতচকিত আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকি। তারপর সকলের সাথে মন্দিরে প্রণাম সেরে নেমে আসি। ফেরার পথে যাই দেওঘরের রামকৃষ্ণ মিশনে। মিশন এর মোহময়ী ও শান্ত পরিবেশ বেশ উপভোগ্য। অবশেষে হোটেলে ফিরে কিছুক্ষণ বিশ্রাম করে ব্যাগপত্র গুছিয়ে নিই। রাতের বাসে রওনা দিই আমরা বাড়ির উদ্দেশ্যে ।

Friday, 11 January 2019



নির্বাসন
     মৌসুমী ভৌমিক
============
যেখানে কোনো কিছুই আমার নয় -
মা - বাবা, ভাই  বোন
ছেলে মেয়ে
বন্ধু আত্মীয় -

কেউ স্থায়ী নয়
সবাই চলে যাবে।
আমিও থাকবো না।

জমিজমা ঘরদালান
এমনকি সাড়ে তিন হাত জমিও
আমার বলে কোথাও থাকবে না।

ভোরের আকাশ, সকালের রোদ্দুর
রোদেলা দুপুর, তুলসী মণ্ডপ,
ছোট কালীতলা, বটের ছায়া
নদীর বুকে বয়ে যাওয়া হাওয়া -
একাত্ম হতে হতে দুদণ্ড প্রকৃতির সাথে নিবিড়  হলেও -
জেনেছি তো - আমি এখানে নির্বাসিত -
সময় ফুরিয়ে গেলে
নির্বাসন শেষে ফিরে যেতে হবে আমাকে। 

Wednesday, 9 January 2019

শীত কবিতা



শিশির ধোয়া হিম বাতাসে
মৌসুমী ভৌমিক
===================
শিশির ধোয়া হিম বাতাসে
       শুনেছ কী শীত আলাপন
না হয় এবার ছায়া রোদে
       করেই নাও তাপ আহরণ।

পৌষ মেঘের শীত আকাশে
        ছেয়েছে দেখো মুগ্ধ মায়া।
শীত সুবাসে ঘুম আবেশে
        জুড়িয়ে নাও অলস কায়া।

শীত কুয়াশার আবছা ছায়ায়
        এসো ভুলি ধোঁয়া ধোঁয়া চায়ে
বসন্ত বুঝি শীত বাতাসে
        এলো ঐ পায়ে পায়ে।

ঝরা পাতার শুকনো ডালে
        শীতকালের ঐ শুকনো বিষাদ
রোসো একটু, দেখেছ কি
        সবুজ পাতার নতুন আবাদ ।

শিশির ধোয়া হিম বাতাসে
        দাও ছড়িয়ে উষ্ণ আভরণ
হিম কাঁপুনির হিম পরশে
        আসুক নেমে বসন্ত প্লাবন।



শীত সুবাসে
মৌসুমী ভৌমিক
==============
শীত সমাসীন, বাতাসে অপেক্ষায় ফাল্গুনী
হিম পরশে
আবেশ বশে
কলতানে শুনি, শীত কোকিলের ধ্বনি।

ধ্বনির ওঁকারে খুঁজে ফিরি অনাগত বসন্ত
লাল পলাশে
শীত সুবাসে
গেঁথে নিই একান্ত নিরালায় আনন্দের হসন্ত।

যদিও তা স্থায়ী নয়, যদিও অতিক্রম্য
মেঘ আড়ালে
দুখ তাড়ালে
জেনে রেখো,  আগামীটা আমারই জন্য।

ভাবনা যদিও চলমান, সময় বিলায় যতো
হৃদ গভীরে
আপন নীড়ে
যুঝে চলি সর্বদাই, খুঁজে নিই আপনার মতো।



উত্তর পৌষে
মৌসুমী ভৌমিক
******************
সমাসীন শীতে শোনো ঐ রিনিরিনি প্রক্কণ
উত্তর পৌষে
শীত সুবাসে
ভাসছে বাসন্তীর আভাস, করেছ কি অবলোকন !

প্রশান্ত প্রশাখার দেখো ঐ নব অঙ্কুরোদ্গম
রিক্ত শাখে
পত্র বাঁকে
মধুর মাধুরী লয়ে বিকশিত, তবু উন্মন মন।

বাতাসে ফাল্গুনীর আগমনী, খোঁজে কি পলাশ
দেখো উল্লাস
একি উল্লাস
মেহগনি আশায় ছোটে দেখো দুরন্ত বাতাস।


শীত রোদ
মৌসুমী ভৌমিক
**********************
বারান্দা জুড়ে রোদ
শীত রোদ
শীত রোদে গা পোড়াই, মন পোড়াই
পড়ে থাকে শূন্য বোধ।

শীত জুড়ে হরেক মেলা
ছায়া রোদে
আলো আবছা ধূলো খেলা।
শীত মেলা - নানান দ্রব্য নানান সাজে
কি জানি কি খুঁজি
মেলা মাঝে
বেলা অবেলা।

বারান্দা জুড়ে শীত রোদ
রোদ গড়ালে পৌষের বিকেল
ঠাণ্ডা হাওয়া
হিম পরশ
আবার সব ভুলে যাওয়া ।

বিকেলের নরম আভা শেষে
শীত রাত
শীত কম্বল
শীতে ঠকঠক।

সব মাঝে উপভোগ করি
শীত রোদ। কবোষ্ণ শীত রোদ।
ভালো থাকুক
আমার
বারান্দা জুড়ে শীত রোদ।




শীত নির্জনে
মৌসুমী ভৌমিক
***************
হিমেল ভোরে শিশির ধোয়া শীতের অঘ্রাণী
হেমন্ত অবসানে
শোনো অতি যতনে
আলোর ছলকে শুভ্র পালকে সুমধুর ধ্বনি।

পাহাড়ীচূড়া ভেসে যায় আলোর আলপনায়
বসি বাতায়নে
শীত নির্জনে
মুগ্ধ প্রভাতে দেখি হিম পরশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়।

অনুভবে খুঁজি শীত সুবাস, সিক্ত ঘাসের প্রাণে
গরম পরিধানে
পৌষের পার্বণে
খুঁজে ফিরি পিঠেপুলি, খেজুর পায়েস ঘ্রাণে।

রিক্ত শাখে আসছে দেখো ঐ সবুজ নবীন
শীত অভিসারে
অতি চুপিসারে
আকাশে বাতাসে শোনো শোনো বাজে মধুর বীণ।


Tuesday, 8 January 2019

কবিতা
মৌসুমী ভৌমিক
============
কবিতার গায়ে লাগুক একমুঠো রোদ্দুর
রাঙা হয়ে মেখে নিক রোদের মেদুরতা
ধীরে ধীরে হেঁটে যাক সাগরের দিকে
চড়াই উতরাই পেরিয়ে বালিয়াড়িতে মিশে যাক ছন্দের স্নিগ্ধতা।
আলগোছে কিছু কথারা বেঁচে থাক
কবিতার সমুদ্রে। নীল নীলিমায় -
যন্ত্রণাগুলো মাথা নিচু করুক
উদ্দীপ্ত প্রাণের কবিতার বিশালতায়।

অবিরত ঈশ্বর হয়ে উঠুক কবিতা ।

Friday, 4 January 2019

আরও একবার       
     মৌসুমী ভৌমিক
============
আরও একবার জন্ম নিতে চাই
সবুজ বনবীথিকায় -
পৃথিবীপ্রাঙ্গনে, সুভাষিত রবির কিরণে
দিগন্তের আলোকমালা প্রাণ ভরে
দেখতে চাই - উন্মুখ কলরবে। 

আরও একবার গেয়ে যেতে চাই জীবনের গান-
সন্তানের মায়ামাখা মুখ 
মায়ের আদরভরা বুক
সুখ দুঃখ মেখে নিয়ে জীবনের জয়গানে
সামিল হতে চাই আরও একবার। 

আরও একবার হেসে যেতে চাই
কারণে অকারণে 
কথায় অকথায়, কখনও বা অন্যমনে
টুকরো খুশির উচ্ছ্বলতায়
প্রাণ ভরে হেসে যেতে চাই সহসা আনন্দধারায় -

আরও একবার স্বপ্ন দেখতে চাই
স্বপ্নউড়ানে ভেসে যেতে চাই নীল আকাশে
মেঘেদের দেশে
মেঘবালিকার সাথে দুদণ্ড উড়ে যেতে চাই অজানা দেশে। 

আরও একবার দেখে যেতে চাই
আকাশ, বাতাস, জল
পদ্মপাতায় শিশিরের টলমল
নদীর কলতান, ঝরনার গান
বৃষ্টির ছন্দ,  সোঁদা মাটির গন্ধ।

আরও একবার জন্ম নিতে চাই -

Thursday, 1 March 2018



                               
            দোল উৎসব
                 মৌসুমী ভৌমিক
         ****************
শীত শেষে ঐ এলো রে বসন্ত
হৃদয়ে দখিনা হাওয়ার মিষ্টি হসন্ত।
রঙের উৎসব এলো যে দোল
মিলন খেলা প্রাণে জাগায় হিল্লোল।
রঙের নেশায় আজ মেতেছে ফাগুন
ডালে ডালে অশোক পলাশের আগুন।
বসন্তের রোদেলায় শোনো উৎসব গান
আকাশ ধরণী তলে বাজে মধুময় তান।
আবীর রাঙা মুখটি আজ বহু অনুরাগে
পরশে পরশে উল্লসিত, মোহন আবেগে।
কুঞ্জে কুঞ্জে ভ্রমর গুঞ্জে, বাতাস ওঠে নেচে
মনের মাঝে খুশির দোল, আজ নিঃসঙ্কোচে।
লাল অশোকে লাল পলাশে একটু বাঁধো মন
নবীন পাতায় মহাকল্লোলে উন্মুখ পলাশ বন।
দোলের দোলা স্থলে জলে, ঐ যে বনতলে
রাই-কানাইয়ের প্রেম-রাগ, দোলা দেয় পলে পলে।
লাল সবুজে আবীর মেখে, বুকে ঢেউ ছলাৎ ছল
উথাল পাথাল শিমূল পলাশ, নীল যমুনার জল।
কৃষ্ণচূড়া ঝুঁটি বেঁধে মেতেছে বসন্ত নৃত্যে
পাঁপড়ি মেলে পুষ্প হাসে আনন্দিত চিত্তে।
দোল পূর্ণিমায় রঙ গুলাবে খুশির হিল্লোল
সহস্র প্রাণে আজ বসন্ত ঝংকার তরঙ্গকল্লোল।

Monday, 26 February 2018



                 " আরেক বসন্ত "
                           মৌসুমী ভৌমিক
                ****************
প্রতীক্ষা শেষে আগত আরেক বসন্ত, আপন সম্ভারে
লাল বাসন্তীতে সেজে এসেছে অনন্য পুষ্পহারে ।
কি জানি কেন, বসন্ত এলেই বেজে ওঠে গান
যদিও বা কম, তবুও শোনা যায় কুহুতান।

এলায়িত হাওয়ায় খুলে যাওয়া কবরীর মতো
শুধু শিমূল পলাশ নয়, বসন্তের ফুল যতো
মেলে রাখে পাপড়ি, আপন সুরভি ছড়ায়ে
ভাষাহীন সে ভাললাগা, ভালবাসে সে ক্রমান্বয়ে।

জরা দুঃখ ভুলে আবিরে আবিরে মেতে ওঠে মন
গদ্য লেখা পাতায় লিখে নিই দোলের আয়োজন।
বাসন্তী হাসি খুঁজে নিয়ে আসি অরুণ রাগে
লুকিয়ে অশ্রুজল, রাঙা হতে চাই এ বসন্ত যাবার আগে।

অযাচিত আমন্ত্রণ লুফে নেবার মতো, টুক করে
বসন্তের মাদকতা বন্দী করি নিঃশব্দে অন্তরে।

Friday, 16 February 2018





এ কোন আলো
মৌসুমী ভৌমিক
=============
আলোর মাঝে এ কোন আলো আছে
            পরম মমতা বুকে ?
যেন ভাসিয়ে দেবে ইহকাল পরকাল
                    স্বর্গীয় পারিজাত সুখে !
মর্মবেদনাকে তরলিত করে
       আলোতে নিহিত এ কোন আলো ?
এত নিপুণ উদ্যোগ - এত আবেশ
       কার আয়োজনে সংঘটিত এ ভালো ?
       আলোর বুকে এ কোন আলো ?

গদ্য

সবুজাভ উপত্যকার বাতাসের সাথে দৌড়তে দৌড়তে ভাবনারাও দুরন্ত হয়ে ওঠে। পাইন বেয়ে প্রশমিত রোদের ডানায় লেগে থাকে চপলতাহীন রোমাঞ্চ। বেলা মুখর হ...