শীত কবিতা
শিশির ধোয়া হিম বাতাসে
মৌসুমী ভৌমিক
===================
শিশির ধোয়া হিম বাতাসে
শুনেছ কী শীত আলাপন
না হয় এবার ছায়া রোদে
করেই নাও তাপ আহরণ।
পৌষ মেঘের শীত আকাশে
ছেয়েছে দেখো মুগ্ধ মায়া।
শীত সুবাসে ঘুম আবেশে
জুড়িয়ে নাও অলস কায়া।
শীত কুয়াশার আবছা ছায়ায়
এসো ভুলি ধোঁয়া ধোঁয়া চায়ে
বসন্ত বুঝি শীত বাতাসে
এলো ঐ পায়ে পায়ে।
ঝরা পাতার শুকনো ডালে
শীতকালের ঐ শুকনো বিষাদ
রোসো একটু, দেখেছ কি
সবুজ পাতার নতুন আবাদ ।
শিশির ধোয়া হিম বাতাসে
দাও ছড়িয়ে উষ্ণ আভরণ
হিম কাঁপুনির হিম পরশে
আসুক নেমে বসন্ত প্লাবন।
শীত সুবাসে
মৌসুমী ভৌমিক
==============
শীত সমাসীন, বাতাসে অপেক্ষায় ফাল্গুনী
হিম পরশে
আবেশ বশে
কলতানে শুনি, শীত কোকিলের ধ্বনি।
ধ্বনির ওঁকারে খুঁজে ফিরি অনাগত বসন্ত
লাল পলাশে
শীত সুবাসে
গেঁথে নিই একান্ত নিরালায় আনন্দের হসন্ত।
যদিও তা স্থায়ী নয়, যদিও অতিক্রম্য
মেঘ আড়ালে
দুখ তাড়ালে
জেনে রেখো, আগামীটা আমারই জন্য।
ভাবনা যদিও চলমান, সময় বিলায় যতো
হৃদ গভীরে
আপন নীড়ে
যুঝে চলি সর্বদাই, খুঁজে নিই আপনার মতো।
উত্তর পৌষে
মৌসুমী ভৌমিক
******************
সমাসীন শীতে শোনো ঐ রিনিরিনি প্রক্কণ
উত্তর পৌষে
শীত সুবাসে
ভাসছে বাসন্তীর আভাস, করেছ কি অবলোকন !
প্রশান্ত প্রশাখার দেখো ঐ নব অঙ্কুরোদ্গম
রিক্ত শাখে
পত্র বাঁকে
মধুর মাধুরী লয়ে বিকশিত, তবু উন্মন মন।
বাতাসে ফাল্গুনীর আগমনী, খোঁজে কি পলাশ
দেখো উল্লাস
একি উল্লাস
মেহগনি আশায় ছোটে দেখো দুরন্ত বাতাস।
শীত রোদ
মৌসুমী ভৌমিক
**********************
বারান্দা জুড়ে রোদ
শীত রোদ
শীত রোদে গা পোড়াই, মন পোড়াই
পড়ে থাকে শূন্য বোধ।
শীত জুড়ে হরেক মেলা
ছায়া রোদে
আলো আবছা ধূলো খেলা।
শীত মেলা - নানান দ্রব্য নানান সাজে
কি জানি কি খুঁজি
মেলা মাঝে
বেলা অবেলা।
বারান্দা জুড়ে শীত রোদ
রোদ গড়ালে পৌষের বিকেল
ঠাণ্ডা হাওয়া
হিম পরশ
আবার সব ভুলে যাওয়া ।
বিকেলের নরম আভা শেষে
শীত রাত
শীত কম্বল
শীতে ঠকঠক।
সব মাঝে উপভোগ করি
শীত রোদ। কবোষ্ণ শীত রোদ।
ভালো থাকুক
আমার
বারান্দা জুড়ে শীত রোদ।
শীত নির্জনে
মৌসুমী ভৌমিক
***************
হিমেল ভোরে শিশির ধোয়া শীতের অঘ্রাণী
হেমন্ত অবসানে
শোনো অতি যতনে
আলোর ছলকে শুভ্র পালকে সুমধুর ধ্বনি।
পাহাড়ীচূড়া ভেসে যায় আলোর আলপনায়
বসি বাতায়নে
শীত নির্জনে
মুগ্ধ প্রভাতে দেখি হিম পরশ ছুঁয়ে ছুঁয়ে যায়।
অনুভবে খুঁজি শীত সুবাস, সিক্ত ঘাসের প্রাণে
গরম পরিধানে
পৌষের পার্বণে
খুঁজে ফিরি পিঠেপুলি, খেজুর পায়েস ঘ্রাণে।
রিক্ত শাখে আসছে দেখো ঐ সবুজ নবীন
শীত অভিসারে
অতি চুপিসারে
আকাশে বাতাসে শোনো শোনো বাজে মধুর বীণ।